গরুর দুধে শিশুর অ্যালার্জি

গরুর দুধে প্রায় ২০ ধরনের প্রোটিন আছে, যার মধ্যে পাঁচটি বেশ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী। যেমন: বিটা ও আলফা ল্যাকটো গ্লোবুলিন, কেসিন, বোভাইন সিরাম এলবুমিন ও গামা গ্লোবুলিন। অনেক শিশুরই গরুর দুধে অ্যালার্জি হওয়াটা বিচিত্র নয়। শিশুকে মাতৃদুগ্ধ থেকে ধীরে ধীরে গরুর দুধে অভ্যাস করানোর সময় এটি ধরা পড়ে। সে কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর দুই-তিন বছর বয়সের দিকে এটা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এসব শিশুর শুধু গরুর দুধ নয়, দুধের তৈরি যেকোনো খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে।

গোদুগ্ধ অ্যালার্জির প্রায় ৮০ শতাংশ হলো তীব্র মাত্রার। এতে রক্তে আইজি-ই বেশি পাওয়া যায়। স্কিন টেস্ট পজিটিভ হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পারিবারিক ইতিহাস থাকে।

 

কারও কারও (২০ শতাংশ) অ্যালার্জি ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, ফলে সহজে নির্ণয়যোগ্য নয়। এগুলোতে রক্তে আইজি-জি বা এম বেশি থাকতে পারে। এসব শিশুর অনেকে ঠিকভাবে বাড়ে না, অসুখ লেগেই থাকে।

 ১-২ শতাংশ শিশুর গরুর দুধে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া প্রথম বছরেই দেখা দেয়। লক্ষণগুলো হলো: বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, শরীরে র‌্যাশ, অ্যাকজিমা, নাকের অ্যালার্জি, কানপাকা অসুখ, অ্যাজমার মতো দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও বুকে শোঁ শোঁ শব্দ। এরা রক্তস্বল্পতায় ভোগে ও ওজনে কম বাড়ে। ভগ্নস্বাস্থ্য থাকে।

কী করবেন?

১. শিশুর প্রথম বছরে গোদুগ্ধ বা দুগ্ধজাত খাবার পরিহার করা উচিত। প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ এবং তারপর মায়ের দুধের সঙ্গে অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার দিন। এক বছর পার না হলে গরুর দুধ বা দুধের তৈরি কোনো খাবার দেবেন না।

২. গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র‌্যাশ ইত্যাদি দেখা দিলে সন্দেহ করতে হবে যে এতে অ্যালার্জি আছে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা ও স্কিন টেস্ট করে নিশ্চিত হতে পারেন। সমস্যা শনাক্ত হলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। কারও কারও ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকে, যাদের দুগ্ধজাত খাবার খেলেই পেট ফাঁপে ও বদহজম হয়। তারাও দুধ এড়িয়ে চলবে।

৩. গরুর দুধের অ্যালার্জির কারণে যদি শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, বারবার রক্তস্বল্পতায় বা শ্বাসকষ্টে পড়ে, তবে তার খাবার তালিকা থেকে গোদুগ্ধ উপাদান বাদ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে অন্যান্য আমিষযুক্ত খাবার, যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, টফি, সয়া ইত্যাদি বেশি করে দিতে হবে। কখনো দেখা যায়, দুধে অ্যালার্জি বা ইনটলারেন্স থাকলেও দই খেলে কিছু হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শিশুর খাদ্যতালিকা পরিকল্পনা করুন।

 বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আগামীকাল পড়ুন: হঠাৎ শ্বাসটান

প্রশ্ন-ত্তর

প্রশ্ন: আমার বয়স ২৩ বছর। কণ্ঠস্বর তুলনামূলক অনেক চিকন। মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় অচেনা লোক আমাকে আপা/ম্যাডাম বলে সম্বোধন করে। মাঝেমধ্যে আমি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। এ বিষয়ে সুপরামর্শ কামনা করছি।

উত্তর: ছেলেদের কণ্ঠস্বর কৈশোরে পরিবর্তিত হয়। এ সময় চিকন কণ্ঠ মোটা, ভারী ও পুরুষালি হয়ে ওঠে পুরুষ হরমোনের প্রভাবে। ভোকাল 
কর্ডে পরিবর্তন আসে। কারও এই পরিবর্তন ঠিকঠাক না হলে কণ্ঠস্বর চিকন রয়ে যেতে পারে। এর সুরাহা করা মুশকিল। তবে আপনার হরমোনজনিত অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, তা দেখে নিতে পারেন।

ডা. শাহজাদা সেলিম, হরমোন বিশেষজ্ঞ


6   Comments 0   by nazrul islam   July 05 , 2019   10:03:35



No Comments yet!

Be the first commenter  

We suggest to login before comment but you may comment without login